বিদেশে কিছু পেলে আমাকে ১০ পারসেন্ট দিয়েন,চলতে কষ্ট হচ্ছে : আসিফ মাহমুদ
আপলোড সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ০৭:৩০:২৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৩-০৯-২০২৬ ০৭:৩০:২৭ অপরাহ্ন
আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
আহছান হাবিব, নিজস্ব প্রতিনিধি: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া নিজের বিরুদ্ধে ওঠা নিয়োগ-পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্যসহ বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুসন্ধান ইস্যুকে ইঙ্গিত করে মুখ খুলেছেন। তিনি নিজের ফেসবুক আইডিতে এক পোস্টে বলেন, বিদেশে কিছু পেলে আমাকে ১০ পারসেন্ট দিয়েন।
আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ফেসবুক পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, ‘অনুসন্ধানে বিদেশে কিছু পেলে আমাকে শুধু ১০ পারসেন্ট দিয়েন, চলতে কষ্ট হচ্ছে।’
এর আগে রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সংস্থাটির জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে নিয়োগ-পদায়ন, বদলি ও পদোন্নতি বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে। তার বিরুদ্ধে নতুন করে বিদেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক জানায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং ঢাকা ওয়াসা, এলজিইডি ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টেন্ডারে কমিশন নেওয়া এবং নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ বলেন, উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নিয়োগ, ডিসি পদায়ন, বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার, নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ, সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার ও শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।
তানজির আহমেদ আরও বলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে ‘বিপুল অর্থ’ পাচার করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইস ব্যাংকে সম্পদ গড়ার অভিযোগ রয়েছে। আসিফের বাবা, এপিএস ও পিওর বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ এসেছে।
দুদক কর্মকর্তা তানজির আহমেদ বলেন, আসিফের বিরুদ্ধে আগে থেকেই একটি অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। নতুন অভিযোগটি সেই চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে খতিয়ে দেখা হবে।
দুদকের নথি অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে। সারা দেশে ৩৬ জন ডিসি পদায়নে ২ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে টেন্ডার বাণিজ্যে আসিফ মাহমুদের সম্পৃক্ততা এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার বাণিজ্যেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ‘হাজার হাজার কোটি টাকা’ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) এই নেতার বিরুদ্ধে।
আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা কুমিল্লার মুরাদনগরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দের বিষয়টি তুলে ধরে প্রকল্পের বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে অভিযোগে।
অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়ানো এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে জুলাই আন্দোলনের সামনের সারি এই ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে ‘কোটি কোটি টাকা’ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স